Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / অবৈধ শ্রমিক তাড়াতে নতুন পরিকল্পনা মালয়েশিয়ার, বাংলাদেশীদের কী হবে?

অবৈধ শ্রমিক তাড়াতে নতুন পরিকল্পনা মালয়েশিয়ার, বাংলাদেশীদের কী হবে?

বৈধভাবেই মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন বিলকিস আরা। কিন্তু পরবর্তীকালে আবেদন করেও ভিসা না পাবার কারণে এখন তিনি হয়ে গেছেন ‘অবৈধ।’

তার মতে, মালয়েশিয়ায় এখন নতুন করে অবৈধ অভিবাসী তাড়ানোর নাম করে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে – তাতে যেন বাংলাদেশী শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে এখন থেকেই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

তিনি বলেন, “আমরা কিন্তু আমেরিকা-ক্যানাডায় যাইনি। আমরা এসেছি মালয়েশিয়ায়। এখানে এসেছি শ্রমিক হয়ে। আজ দেশে চলে গেলে পরিবারকে না খেয়ে থাকতে হবে। এখন আমাদের বের করে দিলে এর প্রভাব দেশেও পড়বে”।

বিলকিস আরা বলেন, মালয়েশিয়া এখন দুদিন পরপরই লোকজন ধরছে – কিন্তু দেশে পাঠাচ্ছে না। ”তাদের ধরে অত্যাচার করছে। এগুলো নিয়ে আলোচনা করা উচিত।”

“অন্তত যারা রেজিস্ট্রেশন করেছে, তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হোক”।

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছে গত প্রায় কয়েক বছর ধরেই। এ বছরেও এ পর্যন্ত আটক হয়েছে অন্তত পাঁচ হাজার বাংলাদেশী।

বছর দুয়েক আগে অবৈধ শ্রমিকদের রেজিস্ট্রেশন করে বৈধ হবার একটি সুযোগ দিলে তাতেও তালিকাবদ্ধ হয়েছে বহু মানুষ।

কিন্তু দুর্নীতি আর অনিয়মের কারণে সেখানেও প্রতারিত হয়েছে বহু বাংলাদেশী – বলছেন বিলকিস আরা, যিনি এদেরই একজন।

সম্প্রতি দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের পর অবৈধ অভিবাসী-বিরোধী অভিযান আরও জোরদার হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অবৈধ শ্রমিক বা অভিবাসীদের তাড়িয়ে দেয়ার কথা ঘোষণা করে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলছেন, বিবৃতিটি তারা দেখেছেন – তবে মালয়েশিয়া বিষয়টি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলছেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যে বিবৃতি দিয়েছে, সেখানে তারা পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনার কথা বলেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যেসব জায়গা থেকে এসেছে অবৈধরা তাদের সেখানেই পাঠিয়ে দিতে চায় তারা”।

বাংলাদেশীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে, কারণ যারা অবৈধ বিষয়টা তাদের সম্পর্কে।”

“আমরাও চাই, আমাদের দেশ থেকে কেউ এখানে এলে নিরাপদ পদ্ধতিতেই যেন আসে,” বলেন তিনি।

মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশী সাংবাদিক শেখ কবির আহমেদ বলছেন, “পাঁচটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তারা। এর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে তারা দেশটি অবৈধ অভিবাসী মুক্ত করবে। অবৈধ অভিবাসীদের যেসব নিয়োগকর্তারা রাখে তাদের চিহ্নিত করবে। আনডকুমেন্টেড যারা তাদের সনাক্ত করবে।”

“গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বাসাবাড়িতে তল্লাশি করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে স্থানীয় মানুষদের এ অভিযানে সম্পৃক্ত করবে”।

এমন প্রেক্ষাপটে অভিবাসন নিয়ে কাজ করা সংগঠন রামরুর একজন পরিচালক মেরিনা সুলতানা বলছেন, মালয়েশিয়ার অবৈধ অভিবাসীবিরোধী এসব পদক্ষেপে যেন বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় – তা নিয়ে এখন থেকেই মালয়েশিয়ার সরকারের সাথে আলোচনা করা উচিত বাংলাদেশের।

তিনি বলেন, “সেখানে থাকা শ্রমিকরা যেন ঝুঁকিতে না পড়ে সেটাও দেখতে হবে, আবার মালয়েশিয়ার বাজারটাও ঠিক রাখা দরকার। শ্রমিকরা যেন সম্মানের সাথে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।”

“আবার প্রসেসের মধ্যে যেসব অনিয়ম আছে তা দূর করা যায় কিনা – তা নিয়েও জোরালো আলোচনা দরকার”।

মেরিনা সুলতানা বলেন, মালয়েশিয়ায় যারা অবৈধ হয়ে আছে তাদের দায় দুদেশের সরকারকেই নিতে হবে – কারণ শুধু শ্রমিকদের জন্যই নয় বরং দু’তরফে থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই শ্রম বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

About নিজস্ব প্রতিবেদক

Check Also

মালয়েশিয়ার সারাওয়াক প্রদেশে যাচ্ছে ৫০ কর্মী!

মালয়েশিয়ার সারাওয়াক প্রদেশে যাচ্ছে ৫০ কর্মী!

মালয়েশিয়ার দ্বীপ রাজ্য সারওয়াকে ২৪ কর্মী যাচ্ছে শুক্রবার ( ১৪ জুন)। গেলো বছরের সেপ্টম্বরে জিটুজি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *